দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কোনো ছাড় দেবে না ইরান। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের প্রস্তাব মেনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হলেও পরমাণু কর্মসূচিতে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না দেশটি। শুক্রবার রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। ইরানের প্রস্তাবের মধ্যে দেশটির বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, আটকে থাকা ইরানি অর্থ ছাড় এবং তেল নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেওয়ার বিষয় রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বৃহস্পতিবার জানান, তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে শত্রুতা বন্ধ করা হবে। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, আটকে থাকা অর্থ ছাড় এবং তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথাও রয়েছে প্রস্তাবে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাত মাস ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর মধ্যে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরব লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি এখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত নিরসনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ইরান বলছে, মার্কিন অবরোধের কারণে তাদের অর্থনীতি চাপে পড়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে চায়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংঘাত বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে তিনি আশাবাদী।
ইরানি ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্তগুলো পূরণ করার পর পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তেহরান। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ পরমাণু কর্মসূচিতে ইরানের অধিকার নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। দেশটির উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর মার্কিন দাবিও মেনে নেবে না ইরান।
ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। বিশেষ করে ইরানের ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বেসামরিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে এটি অনেক বেশি এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি।
তবে ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) হিসাবে, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর সময় দেশটির কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল। ওই মজুতের কতটা এখনো রয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।
ইরানি কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কিছুটা পাতলা করার বিষয়ে তেহরান সম্মত হতে পারে। তবে মে মাসে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানো যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন বলে দুই জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র জানিয়েছিল।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/